স্মৃতির পাতায় সম্পর্কের দাম
3 years ago By Md. Habibur Rahman 

সময় এবং কাজ অবচেতন মনেই পরিবারের সবাইকে আলাদা করে দিয়েছে।বয়স আর কতই হয়েছে অথচ কতদিন বাবার সাথে বিছানা পেতে পাটি পেড়ে রাত কাটানো হয়নি,হয়নি শোনা মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমপাড়ানি গান।

ছোট বোনের সাথে মাছ ধরার কথা ভীষন মনে পড়ে,মনে পড়ে দুপুরে বাবা যখন ঘুমাই সেই সময়ে অটোরিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে কিছু পকেটমানি সংগ্রহ, বাবার সাথে কনস্ট্রাকশন সাইটে বস্তা বিছিয়ে নির্ভাবনার ঘুম,মায়ের শাসন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে,শেষ হয়ে গেছে টিউশন কোচিং এ সময় দিয়ে পরিবারে জন্য ইদ বাজার করার সুখকর স্মৃতি।সকাল ছয়টায় গোটা দুয়েক কোচিং করে নাস্তা করে ভার্সিটি ক্লাস শেষ করে টিউশনে দৌড়ানোর কষ্ট।

তবে মরে গেছে অনুভূতি,আর্থিক অবস্থা পাল্টেছে সাথে সম্পর্ক গুলোর ম্যাচিউরিটি।

ম্যাচিউরিটি সব অর্থে পজিটিভ শব্দ নয় বরং কিছু জায়গায় ইমোশোনাল ফুল না হলে সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায়না।

যুগ হয়েছে আধুনিক,ম্যাচিউরিটি হয়েছে মোটিভেশনাল শব্দ অথচ সম্পর্কের আরেক নাম ইমোশন।

অথচ আবার সবাই সব ফেলে একদিন একত্রিত হবো হয়ত কারো বিয়োগে আর সেদিন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হবে, 

"তোর সাথে আমার অনেক কথা বলার ছিলো, তোর সাথে আমার অনেকটা পথ চলার ছিল"।

আর এই স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই আমরা কেবল তখনই যখন হয় আমরা অসুস্থ থাকি অথবা জীবনের শেষ সময়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সময় গণনা করি।

যৌবনের শক্তি আমাদের অনেক কিছু ভুলিয়ে দিয়েছে।

আমরা আধুনিক হয়েছি,ম্যাচিউরড হয়েছি সাথে সাথে সম্পর্কগুলো ফেলনা হয়েছে।

স্মৃতি গুলো আবছা হয়েছে,অতীত ভাবার সময় কই?

মানবিক হতে ইমোশনের দরকার আছে, অতিরিক্ত ম্যাচিউরিটি বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়।

শেকড় ভুলতে শেখায়, সত্যিই কি আমরা আধুনিক হয়েছি?




Sign in to comment
এই বিভাগের আরো পোস্ট