পুতিন অনেকদিন ধরেই তার স্ত্রীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ; যা তাকে হিংস্রাত্নক করে তুলেছে। একজন প্রেমিক কখনো যোদ্ধা হয় না। প্রেমিকের পছন্দ গোলাপের সৌন্দর্য্য, বারুদ নয়। পুতিনের আগ্রাসী হয়ে উঠার পিছনে প্রেমহীন জীবনের একট অধ্যায় আছে। যেমনটা আগ্রাসী হয়ে উঠেছিলেন নাৎসী বাহিনির প্রধান এডল্ফ হিটলার। তার পালিত পোষা কুকুরকে হত্যা করেছিলো এক ইহুদি দম্পতি। যার ফলশ্রতিতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি গণহত্যা চালিয়েছিলেন। ইতিহাসের ভাষায় একে হলোকাস্ট নামে আখ্যায়িত করা হয়। গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে একে একে হত্যা করেছিলেন ৬০ লক্ষ ইহুদি (তখনকার মোট ইহুদির ৩৭%)। হিটলার বলেছিলেন, বুলেট প্রয়োগ করে ইহুদি হত্যা করতে গেলে বুলেট ফুরিয়ে যাবে। এ জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন মরণনাশক গ্যাস। তৎকালীন জার্মানীর মোট সম্পত্তির ৯৫ ভাগ চলে গিয়েছিলো ইহুদিদের হাতে। ইহুদিরা তখন সুদের কারবারের সাথে জড়িত ছিলো।নিরীহ মানুষের জমি দখলে নিতো তারা। হিটলার অনুধাবন করেছিলেন, ইহুদিরা শুধু তার দেশ নয়, বিশ্বের জন্য এক নম্বর সমস্যা। তিনি ইহুদি গণহত্যার অপারেশনকে অভিহিত করেছিলেন - 'The Solution of Jews Problem' নামে। তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন, ইহুদিরা বিশ্বের একমাত্র সমস্যা। এদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে পারলেই কেবল পৃথিবীর শান্তি নিশ্চিত। হিটলার যুদ্ধে বিশ্বাসী ছিলেন।তার মিন ক্যাম্ফ (মাই স্ট্রাগল) বইটি যারা পড়েছেন, তারা জানবেন। তিনি বলেছিলেন - যুদ্ধই জীবন,যুদ্ধই সার্বজনীন। হিটলারের জীবন খুবই বৈচিত্রপূর্ণ। অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন।হিটলারের বাবা ছিলেন একজন জারজ সন্তান।হিটলার ছবি আঁকাতে খুব পারদর্শী ছিলেন। ছবি এঁকে এঁকে তিনি বার্লিনে টাকা আয় করতেন। পরবর্তীতে তিনি জার্মান সেনাবাহিনিতে যোগদান করেছিলেন সৈনিক হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্বের চাপিয়ে দেয়া অপরাধমূলক ক্ষতিপূরণ, হিটলার পছন্দ করেন নি। সামান্য সৈনিক থেকে তিনি হয়ে উঠেন সেনা প্রধান। বনে যান ফুয়েরার।তারপর জার্মানীর চ্যান্সেলর। গঠন করেন বিশ্ব ইতিহাসের কালো সংগঠন নাৎসী বাহিনি। সারা বিশ্বকে জার্মান জাতীয়তাবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি। জার্মানীকে তিনি সারা বিশ্বের মোড়ল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। সফল হতে না পারলেও,তিনি জানান দিয়েছিলেন - দেশপ্রেম মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। হিটলার জার্মান জাতীয়তাবাদের জন্য ছিলেন এক পথিকৃৎ।