কেউ সাহিত্যে পড়ে বলেই সে দিস্তার পর দিস্তা কাব্য লিখে ফেলবে,ব্যাপারটা এমন না।কেউ সঙ্গীতে পড়ে বলেই তার চেয়ে শ্রেয়তর কেউ গাইতে পারবে না,ব্যাপারটা এমন ও না।কেউ নাট্যকলায় পড়ে বলে তার চেয়ে ভালো অভিনয় কেউ পারফর্ম করতে পারবে না,ব্যাপারটা এমন ও না।আবার কেউ চারুকলায় পড়ে বলে তার চেয়ে সু-দক্ষ চারুশিল্পী কেউ হতে পারবে না,ব্যাপারটা এমন ও না।কেউ ফিজিক্সে পড়ে বলে মহাকাশ নিয়ে তার চিন্তাধারা, অন্য একজন বিজ্ঞানমনস্ক নন-ফিজিক্স'শিয়ানের চিন্তাধারাকে অতিক্রম করে চলে যাবে,ব্যাপারটা এমন ও না। এমনো দেখা যায়,একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ছে,অথচ তার চিন্তাশক্তি বেশি ক্ষুরধার অর্থনীতিতে।আবার দেখা যায়,একজন অর্থনীতিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রশাসন নিয়ে যতটা চিন্তা-ভাবনা করছে,অনেকাংশে তার সিঁকিভাগ ও চিন্তা-ভাবনা করছে না প্রশাসনে পড়া শিক্ষার্থীটি।কারণ, প্রশাসনের শিক্ষার্থীটি'র মাথায় যতটা না প্রশাসন ঘুরছে,হয়তো তার চেয়ে বেশি ঘুরছে সাদা কাগজে লিপিবদ্ধ সাহিত্য।আমরা শিক্ষা বলতে বুঝি - গ্রন্থগত বিদ্যা।গ্রন্থ শিক্ষার মূল উপকরণ।তবে আমরা যা চিন্তা করি অথবা যা করি - তা আসলে আমাদের শিক্ষার প্রতিফলন নয়।বরং তা আমাদের মন-মগজে ছোট থেকে বদ্ধমূল হওয়া 'ভিতরগত সহজাত প্রতিভা'।শিক্ষা অর্জনের বিষয়,প্রতিভা কিংবা চিন্তাধারা চলে আসা - সহজাত প্রবৃত্তি।এটা আমরা জন্ম থেকেই ধারণ করি।এটা নতুন করে সৃষ্ট কোনো বিষয় নয়।এ জন্য আমি পারতপক্ষে শিক্ষার চেয়ে 'প্রতিভা' বিষয়টা'কে বরাবর মূল্যায়ন করি।যে ব্যক্তি কবিতা লিখতে জানে,সে নিঃসন্দেহে শ্রেয় যে কবিতা লিখতে জানে না - তার চেয়ে। যে ছবি আঁকতে জানে,সে নিঃসন্দেহে অধিক প্রতিভাবান তার চেয়ে - যে রং-তুলি ধরতেই জানে না।সেই ব্যক্তি অধিক প্রতিভাবান যে সু-কন্ঠে গাইতে পারে, তার চেয়ে - যে গাইতে গেলে তা কাকের গানে পরিণত হয়।সেই ব্যক্তি অবশ্যই প্রতিভাশীল তার চেয়ে - যে অভিনয় মঞ্চে দাঁড়ালে তার হাঁত পা কাঁপে।