বিশ্বে নোবেল প্রাইজ তারাই পেয়েছে,যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাশ্চাত্যদের গোলামী করেছে। নোবেল প্রাইজ প্রণয়নই করেছে সাম্রাজ্যবাদীরা। ছোট থেকেই আমি খুব বেশি ভাবুক প্রকৃতির। সমাজের, রাষ্ট্রের, পৃথিবীর অনিয়ম ও অসঙ্গতি আমাকে খুব বেশিই পীঁড়া যায়। আমি সাম্রাজ্যবাদী এবং 'জোঁক'দের খুব বেশিই ঘৃণা করি। একজন সাম্রাজ্যবাদের পা-চাটা গোলাম যত বড় মহান ব্যক্তিই হোন না কেন, তিনি আমার চোখে কোনো ব্যক্তিই নন। সাম্রাজ্যবাদীরা আবার মানুষ হয় কিভাবে? যার ভিতরে মানবতা নেই,আত্ন-অহমিকায় ভরপুর, সে কি আসলেই মানব? আমাদের উপমহাদেশের যতজন মানব নোবেল প্রাইজে ভূষিত হয়েছেন,তাদের কেউই কি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী ছিলেন? যারা সবসময়ই সাম্রাজ্যবাদ এবং শোষণের বিরুদ্ধে তাদের কন্ঠস্বরকে চিরজাগ্রত করেছেন,তাদের কেউই নোবেল প্রাইজ পান নি। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু,মহাত্না গান্ধী,মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী,কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা কিশোর কবি সুকান্ত'দের নাম না নিলে তা বড্ড অন্যায় হয়ে যাবে।আমার অত্যন্ত একজন প্রিয় কবি কিশোর কবি সুকান্ত।তিনি তার অল্প জীবনে এমন বিশালতর অর্থপূর্ণ লেখা লিখে গিয়েছেন, তা শ্রবণ করতেই আমাদের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে উঠে। কাজী নজরুল ইসলামের কথা তো বলতেই হয় না। অথচ উপমহাদেশের এসব গুণী ব্যক্তিত্বরা নোবেল প্রাইজের কোনো শাখাতেই মনোনীত পর্যন্ত হতে পারেন নি।আর এর একটাই কারণ! তারা পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের তাবেদার ছিলেন না।তারা ছিলেন নির্যাতিত,শোষিত ও অত্যাচারিত মানবদের শেষ আশ্রয়স্থল। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে একজন মানুষও অভূক্ত থাকবে,ততদিন পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী রক্তচোষা জোঁকদের বিজয় অব্যাহত-ই থাকবে।মহান আল্লাহ্ এসব অত্যাচারী জোঁকদের কালো হাত ভেঙে দিন।যেতে যেতে কিশোর কবি সুকান্ত'র মহাসত্য অমর ভাব দিয়ে শেষ করি-
" ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি"!
পৃথিবীর সকল মানুষ যেন তিনবেলা ভরপেট প্রকৃত রুটির আস্বাদন পান - এই প্রার্থনা করি।