আবারো যেতে ইচ্ছে করে সাধুখানায়।বারামখানায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সাধুসঙ্গ পেতে আমারো ইচ্ছে করে।প্রদীপ আর হারিকেনের আবছা আলোয় আমারো ইচ্ছে করে লালন শাহ কিংবা বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিম-এর গানে সুর মিলাতে।আমারো ইচ্ছে করে বিকেল হলেই নতুন রাস্তার মোড় ধরে হেঁটে হেঁটে গিয়ে চিকনায় গরম গরম পিঁয়াজু আর মালাই চা খেতে।বটতলা,চারুদ্বীপ কিংবা সিন্ধু-সাঁরসের প্রমোদ তরীতে জল-ভ্রমণ কেউ আমায় আর ফিরিয়ে দেবে না!প্রভাতী,ধূমকেতু,প্রলয়-শিখা আর সাঁঝের তারার হুহু করা বাহন - আমি যে প্রতিনিয়তই অনুভব করি।সন্ধ্যা হলেই থিয়েটার হলের 'মঞ্চ নাটক' আর গাহি সাম্যের গান মুক্তমঞ্চের 'সংগীত সন্ধ্যা' আমার শরীরে যে এখনও শিহরণ জাগায়! কলাবাগানের লেবুপাতার চা আর চক্রবাক ক্যাফেটেরিয়ার রাজনৈতিক চা - কেউ কি আমায় এনে দিবে? আমি চলে যাই নি তো।আমি আছি।আমি আছি অগ্নি-বীণা হলের প্রতিটি কার্ণিশের পরতে পরতে, চুরুলিয়া মঞ্চের কাঁঠাল গাছের প্রতিটি শিরা উপশিরায়।আমি আছি শ্যাওড়াতলা,পেত্নীতলার প্রতিটি শিকড়ে শিকড়ে! আমি আছি জ্ঞানের গলি কিংবা আবেগের মোড়ের প্রতিটি চায়ের কাপে।আমি আছি দুখু মিয়া বাংলোর সম্মুখপ্রান্তে, আমি আছি ব্যথার দানের পশ্চাৎ-প্রহারে।আমি থাকবো কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রতিটি বইয়ের পাতার মাঝে, সেন্ট্রাল ফিল্ডের প্রতিটি ক্রীড়াকার্যের অনন্ত গহীনে।কলা অনুষদ,বিজ্ঞান অনুষদ,বিবিএ ভবন কিংবা সমাজবিজ্ঞান ভবন - আমি ছিলাম, আমি আছি,আমি থাকবোই!